এ শহর ফিরায় যারে, তার দীনতা কতটুকু, তা ভাবতেই মনে হয়, বড় ভালো আছি।
যদিও এখনো লাখ লাখ, অথবা কোটি মূল্যের ভালো সময়টা কেনা হয়নি। সুশীল হতে, যা লাগে আর কি, তার সমর্থ এখনো হতে পারিনি। শুনেছি ঐ পর্যায়ে গেলে, মানুষের রুচি পাল্টে যায়। বলা যায়, রুচির মধ্যে একটা আভিজাত্য আসে।
পৃথিবীর কোনো অনেককে দেখেছি এমন, লোক দেখানো অর্জন টাকা দিয়ে কিনে গর্ব করতে। তবে আমার মতো, আমাদের দেশে এমন মানুষের অভাব নেই, যার টাকা নেই, হয়তো তেমন অর্জনও নেই।
আমাদেরকে এই শহরে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তবু, আমি ভালো আছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে বাসে একজনকে দেখেছি, যিনি ভালো নেই। পিরোজপুর থেকে এসেছেন ঢাকায়, তখন ফিরে যাচ্ছিলেন।
কোনো এক প্রতারকের নিশ্চয়তায় ঢাকায় এসেছিলেন চাকরির খোঁজে। টাকা পয়সা তার কত ছিলো, আর চাকরির পেছনে কত টাকা জামানত ছিলো, তা তিনি জানালেন না। তবে, জানালেন, তার কাছে মাত্র বিশ টাকা বাকি। অথচ, তার যেতে হবে এখনো অনেকটা পথ।
ঢাকা থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত, পুরোটা পথ তার, মানুষের মানবিকতা আর অনুগ্রহের উপর নির্ভর করেই চলতে হবে।
কতটা অদ্ভুত না? এ জাদুর শহরে, এত অট্টালিকার বাহারও, তাকে ধরে রাখতে পারলো না। কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের জেরে, তিনি কি তবে নাগরিক জীবনের যত প্রত্যাশা থাকে, তা অস্বীকার করলেন?
রাষ্ট্র তবে কবে জোরপূর্বক সকলকে নগরজীবনের তিক্ত মাধুর্য হাসিমুখে উপভোগ করাতে, সমর্থ হবে?

Leave a Reply